শিরোনাম :
মানবিকতায় অনন্য ওসমানীর নার্সরা, অসুস্থ সহকর্মীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান সিলেটে হঠাৎ ভূমিকম্প অনুভূত গোলাপগঞ্জে এক ব্যক্তির হাত-পা কেটে বিলে ফেলে দিল প্রতিপক্ষরা সহকর্মী শিমু হত্যার বিচার চাইলো বিএনএ সিলেট ওসমানী হাসপাতাল শাখা যে ৫ টি কারণে আপনাকে করলার রস খেতে হবে হবিগঞ্জে তরুণীকে তুলে নিলেন বাবা, ধর্ষণ করল ছেলে নোয়াখালীতে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার ২নি জিরো সাইজের আশায় কিটো ডায়েট! জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন না তো? রাশিয়ার টিকা নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ: উপপ্রধানমন্ত্রী গোলাপগঞ্জের ড্রীমল্যান্ড পার্কে ওড়না পেঁচিয়ে বৃটিশ তরুণীর মৃত্যু পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় সিলেট লন্ডন সরাসরি বিমানের ফ্লাইট চালু যুক্তরাজ্যে হুট করে বেড়েছে করোনা রোগী জেনে নিন ডাস্ট অ্যালার্জি থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ উপায় সিলেট আওয়ামীলীগের ৪ নেতাকে কেন্দ্রে তলব চিকিৎসা করাতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার অভিযোগে মামলা রিফাত শরীফ হত্যায় স্ত্রী আয়শাসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড এমসি কলেজে তরুণী ধর্ষনঃ শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের তদন্ত কমিটি গঠন এমসি কলেজ ছাত্রলীগঃ অপকর্মে এখনো ছায়া রণজিৎ ও আজাদের এমসি কলেজে তরুণী ধর্ষনের ঘটনায় রনি,রাজন ও আইনুল রিমান্ডে সিলেটে করোনায় প্রাণ গেল আরো ২ জনের সিলেট ওসমানী হাসপাতাল নার্সেস এসোসিয়েশনের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন শিশুর দাঁতের যত্ন এমসি কলেজে গণধর্ষণঃআরো ২ ধর্ষককে হবিগঞ্জ থেকে আটক এমসি কলেজে গণধর্ষণঃ ধর্ষক ছাত্রলীগ নেতা রনি হবিগঞ্জে আটক ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে গণধর্ষণ : যেভাবে ধরা পড়লেন আসামি সাইফুর বন্ধ ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগ কেন প্রশ্নবিদ্ধ এমসি কলেজের তদন্ত কমিটি! চীনের করোনা ভ্যাকসিন ব্যবহারে সায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এমসি কলেজে গনধর্ষণঃ ধর্ষক ছাত্রলীগ নেতা অর্জুন হবিগঞ্জে আটক
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন




এমসি কলেজ ছাত্রলীগঃ অপকর্মে এখনো ছায়া রণজিৎ ও আজাদের

প্রতিবেদকের নাম / ৪৪ Time View
আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

নিউজ ডেস্কঃ গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রাইভেট কার নিয়ে ক্যাম্পাসে বেড়াতে আসা দম্পতিকে গাড়িসহ তুলে নিয়ে যাওয়া হয় সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে। সেখানে গাড়ির মধ্যে স্ত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় স্বামীকে আটকে রাখা হয় ছাত্রাবাসের অন্যত্র। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ৬ জন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

ন্যক্কারজনক এ ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে; বইছে নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড়। তবে অনুসন্ধান ও অভিযোগ থেকে জানা গেছে, টিলাগড় এলাকায় অবস্থিত সিলেটের শত বছরের প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমসি কলেজ ও তার ছাত্রাবাসে এ ধরনের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। টিলাগড়ে ছাত্রলীগের অন্তর্কোন্দলে গত ১০ বছরে নিজেদেরই অন্তত ৫ কর্মীর প্রাণ গেছে। ছাত্রলীগের হাতেই পুড়েছে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ ছাত্রাবাস। যখনতখন অস্ত্রের মহড়া নৈমিত্তিক ঘটনা।

পাশাপাশি দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমসি কলেজ ও সরকারি কলেজের সঙ্গে এ এলাকায় প্রতিষ্ঠিত সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের নানান টেন্ডার বাগিয়ে নেওয়া আর আধিপত্য ধরে রাখতেই এই প্রাণহানি আর সন্ত্রাসের উত্থান বলে অভিযোগ। আর টিলাগড়ে অপকর্ম মানেই দুই বন্ধু রণজিত সরকার-আজাদুর রহমান আজাদের নাম আসা অবধারিত।

অভিযোগ আছে, টিলাগড়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির দুই কর্ণধার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক রণজিত সরকার ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমান। এই দুই নেতার ছত্রছায়াতেই টিলাগড়ে খুন আর সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটে। কখনো বন্ধু, কখনো শত্রু এ দুই আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা ছাত্র রাজনীতি ছেড়েছেন প্রায় দুই দশক আগে। তবে টিলাগড় এলাকার ছাত্র রাজনীতিতে এখনো তাদের প্রভাব। তাদেরই এক গ্রুপের কর্মীরা শুক্রবার ধর্ষণকা-ের হোতা বলে জানা যায়।
বারবার কারণে-অকারণে অভিযুক্ত দুই বন্ধু-শত্রুর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে দৈনিক আমাদের সময়। বীভৎস এই ধর্ষণকান্ডের পর দুজনেরই গলায় শোনা গেছে আক্ষেপের সুর। রণজিত সরকার বলেন, আমার জন্য এটা দুর্ভাগ্য যে, এই এলাকার সব অপকর্মেই আমার নাম জুড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কেউ খেয়াল করে না আমার বয়স বা রুচি সে পর্যায়ে নেই। কে আমার সঙ্গে ছবি তুলল, তা তো আমি গুণে রাখছি না। সেই ছবিই নাকি আমার গ্রুপিংয়ের প্রমাণ।

রণজিত বলেন, ২০ বছর আগে ছাত্রলীগের রাজনীতি ছেড়েছি। টিলাগড় এলাকায় আমার বাড়ি- এটাই আমার সবচেয়ে দুর্ভাগ্য। নিজের বাড়ি বিক্রি করে অন্যত্র চলে গেলেই হয়তো এত অপবাদ থেকে মুক্তি পাব।

ধর্ষণকান্ড প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে ধর্ষকদের শাস্তি দাবি করেন রণজিত সরকার। তিনি বলেন, যারা আদর্শের রাজনীতি করে, তারা ধর্ষক হতে পারে না।

ধর্ষণকান্ডের অভিযুক্তরা রণজিত গ্রুপের লোক- এমন প্রচার হলেও তা মানতে নারাজ ‘বন্ধু’ থেকে ‘শত্রু’ হওয়া আজাদুর রহমান আজাদ। তিনি বলেন, একটা কিছু হলেই দোষ চাপিয়ে দেওয়া আমাদের অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে। এ জন্য রাজনীতির নামে সন্ত্রাসীরা আস্কারা পাচ্ছে।

শুক্রবারের ধর্ষণকান্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিষয়গুলো তদন্তের দাবি জানিয়ে এলাকার এই কাউন্সিলর আজাদ বলেন, ধর্ষণের শিকার তরুণীর স্বামী প্রথম ছুটে যান টিলাগড় এলাকার যুবলীগ নেতা বাবলা চৌধুরীর কাছে। তিনি ও অন্যরাই পুলিশকে খবর দেয় বলে শুনেছি। কিন্তু রাত ৮টার ঘটনায় পুলিশ উপস্থিত হয় ১০টায়, বা উপস্থিত হলেও ব্যবস্থা গ্রহণে এই সময়ক্ষেপণ কেন হয় তা জানা প্রয়োজন। অভিযুক্তরা নেতাদের মধ্যে কাকে কাকে কল করেছিল, তাও জানা দরকার। তা হলেই পরিষ্কার হবে কারা তাদের অপকর্মের গডফাদার। একই সঙ্গে সময়ক্ষেপণ করে কেন তাদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হলো, তাও জানতে হবে। ছাত্রলীগের সব অর্জনে ভাগ বসায় আওয়ামী লীগ, তাদের বিসর্জনেও নিশ্চয়ই তাদের কারও না কারও হাত আছে।

আজাদ বলেন, এই এলাকার ছাত্রলীগ গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এটা সত্য। কিন্তু কোনো সন্ত্রাসী আমরা লালন করি না। আমার অনুসারীদের আমি বলেছি, এমসি কলেজের ছায়া না মাড়াতে। ২০০৫ সাল থেকে এমসি ও সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের কোনো কমিটি নেই। কিন্তু ছাত্রলীগের নামে সন্ত্রাসীদের লালন করছে কিছু বহিরাগত লোক। আমার পৈতৃক বাড়ি এখানে। না হলে এলাকাই ছেড়ে দিতাম।

আজাদ আরও বলেন, এমসি কলেজে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। ধর্ষণ বা লাঞ্ছনার ঘটনা আরও ঘটেছে। কিন্তু এবার স্বামী-স্ত্রী হওয়ায় ঘটনাটি সাহস করে প্রকাশ করেছে বা আইনের আশ্রয় নিয়েছে। এখনই সুযোগ এই সন্ত্রাসীদের নির্মূল করার।
রণজিতও নেই, আজাদও নেই- এমসি কলেজ ছাত্রাবাস দখল করে রাখা সন্ত্রাসীদের তা হলে কারা প্রশ্রয় দেয়? এমন প্রশ্নের উত্তরে আজাদ বলেন, যুবলীগের জাহাঙ্গীর, স্বেচ্ছাসেবক লীগের দেবাংশু দাশ মিঠু, কামরুল ইসলাম, বদরুল, ছাত্রলীগের নাজমুল, মুরাদসহ আরও অনেকের নাম শুনি। আমি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারব না। তবে ধর্ষণকাণ্ডের পর সমঝোতা করতে কারা কারা ক্যাম্পাসে এসেছিল, কাদের সঙ্গে ধর্ষকদের কথা হয়েছে, সেটা দেখলেই গডফাদারদের পাওয়া যাবে।

প্রসঙ্গত, অনিন্দ্যসুন্দর এমসি কলেজ ক্যাম্পাস এবং ঐতিহ্যবাহী ছাত্রাবাসে অনেকেই বেড়াতে আসেন। সন্ত্রাসীদের হাতে তাদের লাঞ্ছনার খবর প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু এসব লাঞ্ছনা তো দূরের কথা, ছাত্রাবাসে আগুন ধরিয়ে দিলেও শাস্তি হয়নি সন্ত্রাসীদের।

এলাকার অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গণধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় যে ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। নগরীর টিলাগড় এলাকায় সরকারি দলের কর্মীর পরিচয়ে চাঁদাবাজি, জায়গা দখলসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকা-ে তাদের ব্যবহার করা হয়।

করোনার কারণে বন্ধ থাকার সুযোগে ছয় মাস ধরে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ঘাঁটি গেড়ে মাদক আর সন্ত্রাসের আস্তানা করে তোলে ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীরা। অভিযোগ আছে, বিষয়টি জানা থাকলেও তাদের সঙ্গে সমঝোতা করে চলেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। যদিও কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর সালেহ আহমদ দাবি করেছেন, তাদের কাছে তিনি অসহায়।

সুত্রঃ আমাদের সময়


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর